window.dataLayer = window.dataLayer || []; function gtag(){dataLayer.push(arguments);} gtag('js', new Date()); gtag('config', 'G-PPT9VPR9JV'); মেডিকেল-ডেন্টাল-ভার্সিটি-এডমিশন: যেকোনো সার্জারির আগে নির্ধারিত সার্জারির দিনে রোগীকে খালি পেটে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর কারণ কী?

Sunday, 28 February 2021

যেকোনো সার্জারির আগে নির্ধারিত সার্জারির দিনে রোগীকে খালি পেটে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর কারণ কী?

যেকোনো সার্জারির আগে নির্ধারিত সার্জারির দিনে রোগীকে খালি পেটে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর কারণ খাদ্যের কণা যাতে পেট থেকে Aspiration হয়ে শ্বাসনালীতে আটকে গিয়ে শ্বাসের ক্রিয়া বন্ধ না হয়ে যায়, বা ফুসফুসে চলে গিয়ে সংক্রমণের কারণ না হয়(aspiration pneumonitis), তাই এই উপবাসের সাবধানতা নেওয়া হয়।

এটা ভালোভাবে বুঝতে হলে আমাদের রোগীকে Anaesthesia দেওয়ার প্রক্রিয়াটা জানতে হবে।

রোগীকে প্রথমে নিশ্বাসের মাধ্যমে অক্সিজেনের সাথে মিশিয়ে Inhalational Anaesthetic Agent দেওয়া হয়। তার সাথে চলে কড়া ঘুমের ওষুধ। এতে রোগী অচৈতন্য হয়ে যান, এবং শরীর অবশ ও অসার হয়ে গিয়ে Anaesthesia প্রক্রিয়ার চলন শুরু হয়। এবার এই anaesthesia কে টিকিয়ে রাখতে রক্তের মাধ্যমে intravenous anaesthetic agent দেওয়া হয় - যাতে অবশ ও অসার অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

এবার কাটাকুটি করা যেতে পারে তো, না কি? রোগীর তো আর ব্যথা লাগবে না!

না, এখনও দুটো কাজ বাকি আছে -

(Endotracheal Intubation)

  1. শরীরের মাংসপেশীর একটা স্বাভাবিক tone থাকে, অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় সেটা খানিকটা সংকোচনের অবস্থায় থাকে। এ অবস্থায় কাটাকুটি করতে গেলে সমস্যা, তাই, রোগীকে muscle relaxant দিতে হবে। এতে মাংসপেশী শিথিল হবে। কিন্তু মাংসপেশী শিথিল হলে নিশ্বাসের প্রক্রিয়া বজায় রাখে যে সব মাংসপেশী - সেইগুলো তো শিথিল হয়ে কাজ বন্ধ করে দেবে! তখন রোগী শ্বাস আটকে মারা যেতে পারেন। প্রথমে যে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছিল, সেটা যতক্ষণ (খুব বেশিক্ষণ নয়) রক্তে থাকবে, ততক্ষণ তিনি সুস্থ থাকবেন, এবং তার মধ্যেই রোগীর গলায় নল ঢুকিয়ে endotracheal intubation করে দিতে হবে। এতে রোগী নিজে নিজে নিশ্বাস নিতে না পারলেও ফুসফুসে বাইরের থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে। তাই muscle relaxant দেওয়ার সাথে-সাথেই রোগীকে intubation করে দিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
  2. কিন্তু গলায় কিছু ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি পাবে আর সেটা বার হয়ে আসার কথা, তাই না? Intubation এর নল গলায় কি করে ঢুকবে? কিন্তু এই ক্ষেত্রে রোগীর কাশি পাবে কিন্তু কাশি হবে না - কারণ muscle relaxant এর প্রভাবে তাঁর গলার মাংসপেশীর সংকোচন বন্ধ করা আছে। এমন কি, anaesthetic agent এর দরুণ তাঁর মস্তিষ্ক এটা অনুভব করতেই পারবে না যে গলায় কিছু প্রবেশ করানো হচ্ছে, অতএব কাশি পাওয়ার প্রশ্ন উঠছে না।

(Endotracheal Tube)

তা intubation করা হলে শ্বাসনালী প্রায় পুরোটাই আটকে যায় সাধারণত। কিন্তু তাও পাকস্থলীর থেকে খাবার উঠে তা গলার মাধ্যমে ফুসফুসে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই রোগীকে না খাইয়ে রাখা হয় - পেটে খাদ্যের কণা না থাকলে আর সে ভয়ও থাকে না। এ ছাড়াও অসার করার এবং মাংসপেশী শিথিল করার ওষুধের কার্যক্ষমতা তো অপরিমিত নয়, তারও শেষ আছে, একবার muscle relaxant বা anaesthetic agent দেওয়া ও তার কার্যক্ষমতা শেষ হওয়া এবং আবার নতুন করে সব দেওয়ার মধ্যের সময়ে খাদ্যবস্তু গলায় উঠে এলে রোগী শ্বাস আটকে মারাও যেতে পারেন। তাই এই ব্যবস্থা।

তবে, বিভিন্ন খাদ্যবস্তুর সাথে তা খাওয়ার পর সময়ের কত ব্যবধানে অস্ত্রোপচার করা হবে, তার হেরফের আছে। সাধারণত কঠিন অথচ হাল্কা খাদ্যবস্তুর ক্ষেত্রে ৬ ঘন্টা, অস্বচ্ছ তরলের ক্ষেত্রে ৪ ঘন্টা; স্বচ্ছ তরল, স্তন্যদুগ্ধ ও জলের ক্ষেত্রে ২ ঘন্টা ও ভারী খাবারের ক্ষেত্রে ৮-১২ ঘন্টা। কোন খাবার কতক্ষণ পাকস্থলীতে থাকছে, এটা তার উপর নির্ভর করে।

বলা বাহুল্য যে আপৎকালীন অস্ত্রোপচারে(যেমন পথ দুর্ঘটনা ইত্যাদি) তো রোগী আগে থেকে উপবাস করে আসেন না, তাই অন্য পন্থা নিতে হয়।

  1. Ryles Tube এর মাধ্যমে খাবার পাকস্থলী থেকে বার করা যেতে পারে।
  2. এরপর যখন শ্বাসনালীতে নল ঢোকানোর সময় আসে, তখন প্রথমে গলায় চাপ দিয়ে খাদ্যনালী আটকে খুব দ্রুত শ্বাসনালীতে Laryngeal Mask Airway নামক বিশেষ নল ঢুকিয়ে দিতে হয়। এই পদ্ধতিকে Rapid Sequence Intubation বলে, এবং কখনও কখনও অতি স্থূলকায় বা গর্ভবতী রোগীর ক্ষেত্রেও এটা করা হয়, কারণ এঁদের গলায় খাদ্যবস্তু উঠে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

(Laryngeal Mask Airway)

আশা করি বোঝাতে পারলাম।

এবার একটা কথা - Anaesthesia না করলে কী হবে? এত হাঙ্গামা না করে রোগীকে হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে অস্ত্রোপচার করাই না কেন - পরে শুধু ব্যথার জন্য কড়া ওষুধ দিয়ে? যদি রোগী অস্ত্রোপচারের ব্যথা অনুভব করতে পারেন, তবে কী হবে?

অত তীব্র ব্যথা যদি দেহে অনুভূত হয় তবে প্রচুর পরিমাণে adrenaline ক্ষরণ হয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া প্রথমে অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যাবে এবং রক্তচাপ অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। হৃদযন্ত্র আগে থেকেই রোগগ্রস্ত থাকলে বা না থাকলেও এর ফলেই Arrhythmia হয়ে মৃত্যু হতে পারে। তা যদি না ড়য়, তবে এই increased sympathetic discharge কে ঠেকাতে পাশাপাশি parasympathetic discharge বৃদ্ধি পাবে - এবং সেটা যে পরিমাণে হবে, তাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া কমতে কমতে স্বাভাবিক হওয়ার বদলে একেবারে থেমে যাবে, রক্তচাপ নেমে যাবে, শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্তচলাচল ব্যহত হয়ে রোগী মারা যাবেন। 

Anaesthesia প্রচলন হওয়ার পূর্ববর্তী যুগে অধিকাংশ রোগীই অস্ত্রোপচারের টেবিল থেকে আর ফিরতেন না - তার এই প্রধান কারণ - প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী Antibiotics এর অভাবে সংক্রমণ হয়ে মৃত্যু হওয়ার জন্য রোগী অস্ত্রোপচারের পর অবধি বাঁচলে তবে তো! এমন কি, এই ব্যথার দুশ্চিন্তায় অনেকে আতঙ্কে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে অস্ত্রোপচারের আগেই মৃত্যু বরণ করতেন! আজও তেমন তীব্র ব্যথা হলে মানুষের মৃত্যু হয় - যেমন, রেল দুর্ঘটনায় হাত-পা কাটা যাওয়া, বা পথ দুর্ঘটনায় শিরদাঁড়া ভেঙে যাওয়া - তখন neurogenic shock থেকে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঠেকানোর জন্য কিছুই করা যায় না। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, আশপাশের মানুষ ছুটে আসার আগেই সাধারণত দেখা যায় যে হতভাগ্য আক্রান্ত ব্যক্তিটি পরপারে যাত্রা করেছেন!

No comments:

Post a Comment

গণিতের সকল সূত্রঃ

▶️বীজগাণিতিক সূত্রাবলী 1.📷 (a+b)²= a²+2ab+b² 2.📷 (a+b)²= (a-b)²+4ab 3.📷 (a-b)²= a²-2ab+b² 4.📷 (a-b)²= (a+b)²-4ab 5.📷 a² + b²= (a+b)²-2a...