তোমরা আমাকে বার বার বলতেছ ছন্দ দিয়ে সহজ নোট দিতে। আচ্ছা, আমি তো তোমাদের হেল্প করার জন্যই নোটগুলো দেই। এতো সহজ করতে বলো কেন? এতগুলো স্টুডেন্ট কে পিছে ফেলে একটা সিট নিতে তো একটু কষ্ট করা লাগবে। আমি ছন্দ দিবো মন্দ নয়, বই কিন্তু পর নয়। আমার ছন্দ যদি তোমাকে তোমার বই থেকে সরিয়ে নেয়- তাইলে ছুড়ে ফেলে দাও আমার ছন্দ। আমি তোমাদের স্বপ্ন দেখাতে পারি। কিন্তু বন্ধুর বেশে তোমাদের ক্ষতি করতে পারি না। আমার দেওয়া নোটগুলো পড়ার আগে যদি তুমি মেইন বই ১০ বার পড়তে পারো তবে আমার নোট পড়তে এসো। কারণ ছন্দ মানে পড়া নয়। তুমি বার বার পড়েও যেটা মনে রাখতে পারো না, সেটা ছন্দ দেখ। তাইলে আমি তোমাকে ওয়েলকাম করি। নয় তো না। এবার থেকে কোন বিষয় টা বার বার পড়েও মনে রাখতে পারো না সেটার ওপর নোট দিতে বলবে। সহজ করার ব্যাপার টা আমি আমার সাধ্য মতো চেষ্টা করব ইনশা~আল্লাহ্
সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ
এ অধ্যায়ে বিভিন্ন সংখ্যা নিয়ে যা পাবো-
সুষুম্নাকান্ডের দৈর্ঘ্য- ৪৫ সে.মি
করোটিক স্নায়ু- ১২ জোড়া বা ২৪ টি (এটাতে সবাই ভুল করে। বেশী আবেগী হয়ো না,জোড়া বলে নাকি টি বলে খেয়াল করবে)
সুষুম্না স্নায়ু -৩১ জোড়া বা ৬২ টি
সেরিব্রাল অ্যাকউডাক্ট -১৫ মি.মি লম্বা*
মস্তিষ্কের ওজনঃ পুরুষে ১৩৮০ গ্রাম/১.৩৬ কেজি, স্ত্রী লোকে ১২৫০ গ্রাম /গড়ে ১.৩৫ কেজি
মস্তিষ্কের আয়তন ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার
মস্তিষ্কে ১০০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি নিউরন আর ১০০ বিলিয়ন নিউরোগ্লিয়া থাকে।
সেরেব্রাম মস্তিষ্কের ওজনের ৮০%
সুষুম্নাকাণ্ড ১৮ ইঞ্চি বা ৪৫ সে.মি লম্বা, ১.২৫ সে.মি প্রশস্থ, ৩১ টি খন্ড নিয়ে গঠিত
রড কোষ ১২ কোটি থেকে ১২ কোটি ৫০ লক্ষ আর কোণ কোষের সংখ্যা ৬০-৭০ লক্ষ।
মানব চক্ষুতে রেকটাস ৪ টি
পেরিলিম্ফে শব্দ ২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়
অর্গান অব কর্টিতে সংবেদী রোম কোষের সংখ্যা ২৫০০০
পিটুইটারি গ্রন্থির ওজন ০.৫২১ গ্রাম, থাইরয়েড গ্রন্থির(২টি) ওজন ২০-২৫ গ্রাম/১৫-২০ গ্রাম, প্যারাথাইরয়েড (৪টি) গ্রন্থির ওজন ১৪০ গ্রাম
৩০ বছর বয়সের পর হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়।
ভিট্রিয়াস হিউমারে ৯৯% পানি আর ১% কোলাজেন ও হায়াল্যুরোনিক এসিড
নিউরন(স্নায়ুতন্ত্রের গঠন আর কার্যিক একক):
নিউরন টা অ্যাপোলার, দুই জায়গায় সমাহার-
সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের বাইরে-
আর রেটিনার নিউক্লিয়ার স্তরে।
যদি বলে ইউ (ইউনিপোলার)
mammal এর প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রে খোঁজিও!
আর যদি বাই (বাইপোলার) চায়-
বলে দাও- রেটিনা, ক্লকিয়া আর নাকে পাওয়া যায়।
কোথায় থাকে সিউডোইউনিপোলার-
দুই গ্যাংগ্লিয়ায় (স্পাইনাল গ্যাংগ্লিয়া আর করোটিক স্নায়ু গ্যাংগ্লিয়া) এদের সমাহার
আর মাল্টিপোলার থাকে মস্তিষ্ক আর সুষুম্নাকান্ডে।
মস্তিষ্কঃ মস্তষ্কের লোব কয় টা, অংশ কয় টা, কোন অংশের নাম কি, হেমিস্ফিয়ার দুটি কি দিয়ে সংযুক্ত*, মস্তিষ্ক আর সুষুম্না কান্ডের সাথে তুলনা করে পড়বে আবরণের স্তরগুলো, গ্রে ম্যাটার আর হোয়াইট ম্যাটার এর কি নিয়ে গঠিত এগুলো তোমরা এমনিতেও জানো, আবারও দেখে নিবে।
*সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারে ৫ টি লোব (ফ্রন্টাল, প্যারাইটাল, টেম্পোরাল, অক্সিফিটাল আর লিম্বিক → ফ্রন্টে প্যারা, ট্রেনে অ্যাক্সেস লাগে)
*ইচ্ছাশক্তি আর ক্রিয়েটিভিটি দেখে অবাক হও কেন ভাই?
সেরেব্রাল এখন তার জবাব চায়।
(ক্রিয়েটিভিটি চিন্তা, বুদ্ধি, উদ্ভাবনী শক্তি/ ছন্দের মধ্যে ইচ্ছা শক্তির কথা দিলাম কারণ এটা একটু ব্যতিক্রম)
*তুমি তাকে এত বিরক্ত (যন্ত্রণা) করে, ধাক্কা (স্পর্শ) দিয়ে, তার আবেগের কেন্দ্রে প্রেসার (চাপ) করলে- তার হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে (হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গলে পরিবেশ সম্পর্কে সজাগ) যাওয়া সত্ত্বেও সব কিছু নিয়ে সতর্ক , তার ব্যক্তিত্ব (ব্যক্তিত্বের প্রকাশ) ভালো, সামাজিক (সামাজিক আচরণের প্রকাশ) তাই সে তোমাকে কিছু বললো না। দেখছ, থ্যালামাসের কতগুণ।
* অটো নার্ভের কেন্দ্র, দেহ তাপ নিয়ন্ত্রণ করো।
তাহলে রাগ-উদ্ভেগে ঘামবে তুমি কম-
জানাও তোমার যদি পায় ক্ষুধা-তৃষ্ণা-ঘুম
নিয়ন্ত্রণ করো- রক্তচাপ আর অন্তঃক্ষরাগ্রন্থির ক্ষরণ
ভালো লাগে তোমায় বন্ধু হাইপোথ্যালামাস-
ভেসোপ্রেসিন আর অক্সিটোসিন ক্ষরণ এসবও তোমার কাজ।
*এছাড়া হাইপোথ্যালামাস কে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলে।
*মধ্য মস্তিষ্কের পর থেকে করোটিক স্নায়ুতন্ত্রের আগ পর্যন্ত নিজ দায়িত্বে পড়ে নিবে। করোটিক স্নায়ুর চার্ট থেকে শুরু করতেছি।
মানুষের করোটিক স্নায়ু
করোটিক স্নায়ু মুখুস্ত রাখার জন্য কোনো ছন্দ পেলেও ব্যবহার করবে না। এটা অনুরোধ করছি তোমাদের। ১-১৩ পর্যন্ত স্নায়ুর নাম সিরিয়ালি দ্রুত পড়ে মুখুস্ত করবে। সংবেদী স্নায়ু, চেষ্টীয় স্নায়ু আর মিশ্র স্নায়ু এসবের চার্টের ওপর নোট দিচ্ছি। দেখবে অল্প পড়েও পুরো চার্ট টা মুখুস্ত করতে পারবে - ইনশা~আল্লাহ।
করোটিক স্নায়ুর চার্টের সহজ নোটঃ
১ ও ২ নং স্নায়ুর এর উৎস অগ্রমস্তিষ্ক
৩ ও ৪ নং স্নায়ু এর উৎস মধ্যমস্তিষ্ক
বাকি সব মেডুলা অব ল্যাংগাটায়।
৩৪৬ কাজ না করলে তুমি চার দিকে চোখ ঘুরাতে পারবে না৷ কারণ ৩, ৪ আর ৬ নং স্নায়ু অক্ষিগোলক সঞ্চালন করে।
কি শুরু করছ? ৯ বার জিহ্বা ঘুরালে ১১ বার মাথা ঘুরাচ্ছ কেন? আসলে
৯ নং স্নায়ু জিহ্বার সঞ্চালনের সাথে যুক্ত আর ১১ নং স্নায়ু মাথা ও কাঁধের সঞ্চালনের সাথে যুক্ত
১ বার ঘ্রাণ নিলাম ২ বার দেখলাম। আসলে ১ নং স্নায়ু ঘ্রান উদ্দীপনা বহন করে আর ২ নং স্নায়ু দর্শন অনুভুতি বহন করে।
ভারসাম্য আর শ্রবণ, অডিটরির গুণ
সেন্সরী স্নায়ু ১২৮ অর্থাৎ ১, ২ আর ৮ নং
১১, ১২ আর ৩৪৬ চেষ্টীয় বা মোটর স্নায়ু। আসলে৩, ৪, ৬ আর ১১, ১২ এগুলো মোটর স্নায়ু
বাকি সব মিশ্র স্নায়ু। এগুলো মনে রাখার জন্য আরেক টা টেকনিক দিচ্ছি।
স্নায়ুগুলোর নামের বানান দেখবে। যেটার বানানের শুরুতে "অ" থাকবে সেটা সংবেদী স্নায়ু (ব্যতিক্রম- অকলোমোটর)। যেটার বানানের শেষে "ল" থাকবে সেটা মিশ্র স্নায়ু (ব্যতিক্রম- হাইপোগ্লোসাল)। বাকিগুলো মোটর স্নায়ু (ব্যতিক্রম-ভেগাস স্নায়ু)
এতটুক পর্যন্ত সম্পূর্ণ চার্টের বর্ণনা। আবার অনুরোধ করছি- স্নায়ুগুলো মুখুস্ত করার টেকনিক নিও না আর সিরিয়ালি মুখুস্ত করবে। বইএ চার্টের পরে ওনারা ওনাদের মতো বর্ণনা দিলেন- গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। মেডিকেলে সেখান থেকে প্রশ্ন বেশী আসে, প্রশ্ন ব্যাংক দেখলে বুঝতে পারবে।
চোখঃ চোখ নিয়ে মনে রাখার সহজ উপায় হলো অংশগুলোর নামের সাথে মিলিয়ে পড়া। তাহলে সহজে মুখুস্ত হবে। চোখে রেকটাস আর অবলিক এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তারপরও নোট লাগলে জানাইও।
কোরয়েডের অংশঃ CHIPS (CH-সিলিয়ারি বডি, I- আইরিশ, P- পিউপিল, S- সাসপেন্সরি লিগামেন্ট)
চোখে তিন ধরনের গ্রন্থি থাকে৷ মনে রাখব - হামলা (হা- হার্ডেরিয়ান গ্রন্থি, ম- মেভোবিয়ান গ্রন্থি আর লা - ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি)
No comments:
Post a Comment