আমি এখানে যা বলব, একজন ভর্তিপরীক্ষার্থীর যে রকম পড়া দরকার ওরকমই লিখা থাকবে। তাই বিস্তারিত ব্যাখ্যা টা জানতে হলে পরে জানাবো। তবে- এখানে থাকছে শর্টনোট, যা একজন ভর্তি পরীক্ষার্থী সহজেই বুঝে যাবে।
সমাণুতা
সমাণুতা হচ্ছে আণবিক ভাবে একটা জিনিস থেকে অনেক রকম গঠন। [যেমনঃ মাটি থেকে চুলা, বাসন-কোসন, ডেকসি, পুতুল অনেক কিছু তৈরি হয়। ] গঠন পরিবর্তন হওয়াই রাসায়নিক ধর্ম পরিবর্তন হবে। সমাণুতার শ্রেণিবিভাগ বই থেকে দেখে নিবে।
চেইন সমাণু- কার্বন শিখলের ভিন্নতা দেখবে মাত্র।
CH3-CH2-CH22-CH3 এবং CH3-C(CH3)H-CH3 এর পরস্পর শিকল সমাণু।
অবস্থান সমাণুঃ শিখলে কার্যকরী মূলক/ দ্বিবন্ধন/ত্রিবন্ধনের অবস্থান পরিবর্তন হবে।
CH3-CH2-CH2-CH2-OH এবং CH3-CH2(OH)-CH3
কার্যকরী মূলক সমাণুঃ কার্যকরী মূলক পরিবর্তন হবে।
CH3-CH2-CHO এবং CH2=CH-CH2OH
মেটামারিজমঃ একই শ্রেণির মধ্যে কেবল মাত্র মূলকের অবস্থানের ডান/বাম পাশে শিখলের কার্বন সংখ্যা পরিবর্তন হবে মাত্র। উল্লেখ্য মেটামারিজম দিবে- ইথার, কিটোন, অ্যাসিটোন, 2° অ্যামিন, অ্যাসিড অ্যানহাইড্রাইড
[ইতি (ইথার) কি (কিটোন) আসিতো (অ্যাসিটোন),
2° অ্যামিন আর অ্যাসিড অ্যানহাইড্রাইড আনিত-
তবে তো তারা মিটমাট (মেটামার) হইতো।
টটোমারিজমঃ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কার্যকরীমূলক পরিবর্তন হয়ে যাবে, তাহলে টু টু করে - টটোমার হবে।
CH3-CO-CH3 ⇄ CH3-C(OH)=CH2
তিন টা জিনিস দেখে টটোমার চিনবে- ১. কার্বন কমপক্ষে ৪ টা
২. কার্যকরীমূলকের সাপেক্ষে α-কার্বন
৩. অবশ্যই একটি তড়িৎঋণাত্মক পরমাণু দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকবে। (>C=O, -N=O, >C=NH etc.)
স্টেরিও সমাণু মানেই ত্রিমাত্রিক। স্টেরিও বা ত্রিমাত্রিক সমাণু দুই রকম। ১. জ্যামিতিক/সিস-ট্রান্স সমাণুতা ২. আলোক সমাণুতা।
সিস-ট্রান্স সমাণুতার শর্তঃ ১। abC=Cab ; a≠b
(CH3)ClC=C(CH3)Cl এখানে CH3≠Cl
২.abC=Cad ;a≠b≠d
(CH3)ClC=C(CH3)(C2H5) এখানে CH3≠Cl≠C2H5
৩. abC=Cde ; a≠b≠d≠e
CH3BrC=C(C2H5)H এখানে CH3≠Br≠H≠C2H5
[পরীক্ষায় আসলে ৩ সেকেন্ডের ভিতর দেখবে - দ্বিবন্ধন কার আছে, আর দ্বিবন্ধনের একই পাশে একই মূলক যার নাই সেই সিস-ট্রান্স সমাণুতা দিবে।- কথা টা সত্য কি না উপরের উদাহরণ আর বইএর উদাহরণে মিলিয়ে দেখ।
সিস-ট্রান্স সমাণুর ধর্ম নিয়ে মাথা-ব্যথার দরকার নাই, তবে কয়েকটি গলনাঙ্ক আছে৷ একটা সিট নিশ্চিত করতে ধর্মগুলো দেখে নেওয়া ভাল।]
আলোক সমাণুতাঃ চট করে আলোক সমাণুতা নির্ণয় করার জন্য দেখবে কাইরাল কার্বন কার আছে অর্থাৎ কোন কার্বন পরমাণুর পাশের চার টা মূলক ভিন্ন।
[আপেক্ষিক আবর্তনগুলো দেখে নিবে একটু বই থেকে। যেগুলো less important আর বই এ আছে সেগুলো এখানে suggest করতেছি। লিখতেছি না।]
এনানশিওমারঃ কোনো একটি আলোক সক্রিয় যৌগের যদি দুটি আলোক সমানু (ডান ঘূর্ণী আর বাম ঘূর্ণী) থাকে, তাদেরকে পরস্পরের এনানশিওমার বলবে। আর এন্টি(anti) মানে বিপরীত। আর এরা যেহেতু একটি অপরটির বিপরীত, তাদের এন্টিমারও বলতে পারবে। তারা যেহেতু পরস্পরের প্রেমে পটে না তাই তোমার ইচ্ছে হলে এদের এন্টিপট ও (antipodes-অ্যান্টিপডস বা বিপরীত পৃষ্ঠের বাসিন্দা) বলতে পারবে🤣।
[ইচ্ছে হলে এনানশিওমারের ধর্ম দেখে নিবে।]
রেসিমিক মিশ্রণঃ আগেই বলছি- এনানশিওমার হচ্ছে এন্টিপডস। যাদের কেলাইলেও পটবে না। তাদের যদি পরস্পর মিশাও- নিস্ক্রিয় হয়ে বসে থাকে। আর মেশালে তো নিস্ক্রিয় হয়ে যায়- তাই তাদের বলব রেগেছে (রেসিমিক মিশ্রণ) [এনানশিওমারের সমমোলার মিশ্রণকে রেসিমিক মিশ্রণ বলে]
রেসিমিক মিশ্রণের উদাহরণ মোটামুটি পরীক্ষায় আসে। তাও ওই যে শুধু ল্যাকটিক এসিড।
মেসো যৌগ দেখে নিবে।
কোনো একটি কার্বন যৌগে যদি n সংখ্যক কাইরাল কার্বন থাকে তবে-
পরীক্ষা দিতে যাবে নিচের গান টা কয়েক বার গেয়ে,
পরীক্ষায় যদি আসে খুশি হবে answer দিয়ে।
ভিন্ন হলে কাইরাল কার্বন,
পাওয়ার (power) হিসেবে n নিয়ে চল।
n সংখ্যক যদি একই পায়,
পাওয়ার (power) থেকে 1 বাদ যায়।
সম্ভাব্য মেসো? জানো নি কিছু-
পাওয়ার থেকে 2 বাদ যাক-
তারপর পাওয়ারকে 2 দিয়ে ভাগ।
পাওয়ার (power) টা কার, এই "2" সংখ্যাটার।
পুরো ছন্দ টার মানে কি দেখ-
যদি n সংখ্যক ভিন্ন অপ্রতিসম কার্বন বা কাইরাল কার্বন থাকে তবে আলোক সমানুতার সংখ্যা 2n
যদি n সংখ্যক একই অপ্রতিসম কার্বন বা কাইরাল কার্বন থাকে তবে - আলোক সমানুতার সংখ্যা 2(n-1)
এখন n সংখ্যক যদি একই কাইরাল কার্বন থাকে তবে নিশ্চই মেসো যৌগ থাকবে। তো সম্ভাব্য মেসো যৌগ সমাণু সংখ্যা 2(n-2)/2
[স্বীকার কর বা না কর, এটা এখনো তুমি ঠিক মতো বুঝ নি। তবে আনন্দের কথা কি জানো? এই ছন্দের দ্বারা যা তথ্য দিছি সেগুলো ভর্তি পরীক্ষায় আসে না। ভবিষ্যতে আসার সম্ভাবনা প্রবল। তাই দিয়ে দিলাম। তবে বইএর উদাহরণগুলো একটু দেখে নিবে।]
অ্যালকেনে কার্বন সংখ্যা n=1,2,3...7 হলে, সমাণু সংখ্যা = 2n-4+1 (ঢা.বি-০২-০৩) [কার্বন সংখ্যা 8 এর বেশী দিলে এই সূত্র প্রযোজ্য হবে না আর 8 এর বেশী কার্বন দিয়ে পরীক্ষায় আসেও না।]
অ্যালকিনের ক্ষেত্রে কার্বন সংখ্যা 3,4,5 হলে সমাণু সংখ্যা যথাক্রমে 2,3,6 (১ম দুই টাতে ১ করে বিয়োগ, শেষের টা তে ১ যোগ)
অ্যালকাইনে কার্বন সংখ্যা 4,5 হলে সমাণু সংখ্যা যথাক্রমে 2,3 (কার্বন সংখ্যা থেকে ২ বিয়োগ)
অ্যালকোহল ও ইথারে কার্বন সংখ্যা 2, 3,4 হলে সমাণু সংখ্যা যথাক্রমে 2,3, 7 (7 টি সমাণু হবে 3 টি অ্যালকোহল আর 4 টি ইথার সমাণু মিলে)
বেনজিনের সমাণু নির্ণয় করা টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেনজিনের সাথে যদি একটি পার্শ্বগ্রুপ থাকে তবে সমানুপাবে না। দুইটি পার্শ্বশিকল থাকলে সমাণু হবে 3 টি। তিন টি পার্শ্ব শিকল/গ্রুপ থাকলে সমানু হবে - 3,6,10 টি। 3 টি হবে যদি পার্শ্বশিকল 3 টি একই হয়, 6 টি হবে যদি 2 টি পার্শ্বশিকল একই আর একটি ভিন্ন হয়। 10 টি হবে যদি তিনটি পার্শ্বশিকলই ভিন্ন হয়।
অ্যারোমেটিক যৌগে হাকেল তত্ব মেনে (4n+2) সংখ্যক পাই ইলেকট্রন থাকবে।*
আলকাতরার পাতনে কোন অংশে কোন ধরনের উপাদান পাও মনে রাখবে। আর কয়েক টা সংকেত ওগুলো সহ দেখবে।
বেনজিনঃবেনজিন যদি পেতে চাও-
সোডিয়াম বেনজোয়েটকে সোডালাইম এর সাথে মিশিয়ে তাপ দাও
ফেনল কে Zn সহ বাষ্প পাতন চালাও
অ্যাসিটিলিনকে ৪৫০° সে. তাপমাত্রার লোহার নলে ঢোকাও
গ্রিগনার্ড বিকারককে আর্দ্রবিশ্লেষণ করাও
বেনজিন ডায়াজোনিয়াম লবণকে কিউপ্রাস আয়নের উপস্থিতিতে ফসফিনিক এসিড দিয়ে বিজারণ করাও
টলুনের সাথে Pt গুড়া মিশিয়ে Al2O3কে স্বাক্ষী রেখে ৬০০°সে তাপে H2 সংযোজন করাও।
এই ছয়টা বড় করে নাম্বার সহ পড়,
পরীক্ষায় পারবে না- এই টেনশন ছাড়ো।
[বিক্রিয়া সব বই থেকে দেখে নাও আর এই ৬ টা কথাও মিলিয়ে নাও।] বেনজিন যাদের সাথে বিক্রিয়া করে না-
১.benzene+Br2+CCl4→no reaction
২. Benzene+KMnO4+KOH→no reaction
৩. Benzene+ HBr→ no reaction
৪. Benzene + H2O+H+→ no reaction
টলুইনঃ টলুইনের উৎপাদনের জন্য-
প্রথমে দেখবে উর্টজ ফিটিগ বিক্রিয়ার সেশন।
[ C6H5Cl+ শুস্ক ইথার 2Na+CH3Cl→C7H8(টলুইন)+2NaCl]
*টলুইন উৎপাদনে-শুষ্ক ইথার ব্যবহার করছে কেন? তোমাদের কাছে একটা প্রশ্ন রেখে গেলাম। আমি জানি, অনেকে পারবা। আবার এটা বলো না, ভাইয়া আপনি সব বলে গেলেন- যেটা পারেন না সেটা আমাদের দিয়ে গেলেন, তাই না🤣?
তার পর ফ্রিডেল ক্রাফট অ্যালকাইলেশন।
[C6H6+CH3Cl+শুষ্ক AlCl3→C7H8(টলুইন)+HCl
এর বৈশিষ্ট্যঃ ১. এটি একটি বর্ণহীন পদার্থ যার গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক যথাক্রমে: -198°C এবং 111°C
২. এটি পানি অপেক্ষা হালকা। আপেক্ষিক গুরুত্ব ০.৮৬৬
৩. পানিতে অদ্রবণীয় কিন্তু অ্যালকোহল আর ইথারে দ্রবণীয়।
(টলুইনের ব্যবহার বই থেকে দেখে নিবে।) *বেনজিনের ইলোকট্রোফিলিক প্রতিস্থাপন কারা চায়?
অ্যালকাই- অ্যাসাই সালফোর নেশায়
হ্যালো হ্যালো করে হায়!
[অ্যালকাই (অ্যালকাইলেশন) অ্যাসাই (অ্যাসাইলেশন) সালফোর (সালফোনেশন) নেশায় (নাইট্রেশন)
হ্যালো হ্যালো করে (হ্যালোজেনেশন) হায়!]
*নাইট্রেশন আর সালফোনেশন এর প্রভাবক দেখবে।
*মেইন বই এ দেওয়া কতগুলো চাক্রিক যৌগ আছে, ওগুলোর পাই ইলেকট্রন কয় টা দেখবে। সহজ ব্যাপার- হেটারো অ্যারোমেটিক যৌগ যেগুলো মনে রাখার ছন্দ দিছি ওগুলো সবগুলোতে ৬ টা পাই ইলেকট্রন। বেনজিন (৬), ন্যাপথালিন(১০), অ্যানথ্রাসিন (১৪) এরা হোমো অ্যারোমেটিক, মনে রাখবে। আর স্পেসিফিক ৪/৫ টা হেটারো আয়ন আছে ওসবের পাই ইলেকট্রন দেখে নিবা। একটা সিট অর্জনের জন্য কোনো অবহেলা নয়।
হাকেল তত্ব অনুসারে অ্যারোমেটিক যৌগে (π) পাই ইলেকট্রন 4n+2 সংখ্যক। সেই অনুসারে - 2, 6, 10, 14, 18… এগুলো হাকেল সংখ্যা। এখন দ্বিবন্ধন দেখে - অ্যারোমেটিক যৌগ নির্ণয় করবে-
n= (x-1)/2 এখানে, x হচ্ছে (π)পাই বন্ধন বা দ্বিবন্ধন সংখ্যা। আর n হচ্ছে স্বাভাবিক সংখ্যা। n পূর্ণ সংখ্যা হলে যৌগ টি অ্যারোমেটিক যৌগ।
যেমনঃ অ্যানথ্রাসিনের দ্বিবন্ধন সংখ্যা x=7 টি। সুতরাং n=(7-1)/2=3 যেহেতু, n=3, পূর্ণ সংখ্যা তাই এটি অ্যারোমেটিক যৌগ। আরেকটি দেখি- সাইক্লোপেন্টেনে দ্বিবন্ধন সংখ্যা x=4। সুতরাং n= (4-1)/2 =3/2 ; যা পূর্ণ সংখ্যা নয়৷ তাই এটি অ্যারোমেটিক যৌগ নয়।
আরেক টা বিষয় জানিয়ে রাখি- সেটা হচ্ছে, লোন পেয়ার/নিঃসঙ্গ জোড় ইলেকট্রন রেজোন্যান্সে অংশ নেয়।
এছাড়াও অন্যান্য বিষয়গুলো দেখতে ক্লিক করো
এখানে 👉 জৈব রসায়নঃ 2.0-2.6 সংক্ষেপে এমনি শিখি (এসো মজা নিয়ে শিখি)
👉 জৈব রসায়নঃ 2.10.1-2.11.4 সংক্ষেপে এমনি শিখি (এসো মজা নিয়ে শিখি)।
No comments:
Post a Comment